আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যে’র মূর্তি স্থাপন

“শঙ্কর লোক শঙ্কর”
আগামী ১লা মার্চ ২০২০ তে আদি গুরু শঙ্করাচার্য মন্দির এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এর শুভ সূচনা । সকল স্তরের মানুষ দের সাদর আমন্ত্রণ।
যোগাযোগ- ৯৮৩১৬৫৮৬২৪
সময় – সকাল ১০ টা

হাওড়া, চ্যাটার্জি পাড়া

আমাদের সনাতন ধর্মের এক সংকটকালে আবির্ভাব ঘটেছিল আদিগুরু শঙ্করাচার্যের। আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর আগে। ৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৮২০ – মাত্রই ৩২ বছর জীবন ছিল তাঁর। কিন্তু একেবারে বাল্য থেকে বেদপাঠে অভ্যস্ত আদি শঙ্করাচার্য ওই সামান্য সময়েই সুপ্রাচীন হাজার হাজার বছরের সনাতন হিন্দু ধর্মে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন।

তখন ভারতে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে ক্রমে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছিল হিন্দু ধর্ম। একেবারে একার উদ্যম ও প্রতিভায় আদি শঙ্করাচার্য সমগ্র ভারত পদব্রজে পর্যটন করে ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্টা করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাড়া ফেলে দেন। এক সূত্রে বাঁধা পড়ে ভারতের চার প্রান্ত।

ওই চারটি মঠ হলো শৃঙ্গেরী (এখনকার কর্ণাটক রাজ্যে), দ্বারকা (এখনকার গুজরাত রাজ্যে), পুরী (এখনকার ওড়িশা রাজ্যে) ও জ্যোতির্মঠ বা জোশিমঠ (এখনকার উত্তরাখণ্ড রাজ্যে)।

মহাজ্ঞানী অসীম প্রতিভাধর মানুষটির আরও উল্লেখযোগ্য কর্ম কান্ড হলো আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলির ওপর তার লিখিত  নানা টীকা ।

এই অসামান্য  মানুষটি প্রাতঃস্মরণীয়। আমরা অ্যাস্ট্রোলজি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোলজারস ওয়েল ফেয়ার আসোসিয়েশন তাঁকে বিশেষ সম্মান জানাবো, এক বিশেষ কর্ম উদ্যোগে।

আমরা হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে একটি জমি পাচ্ছি দত্তক হিসেবে। ওই জমির সৌন্দর্যায়ন করবে আমাদের সংস্থা অ্যাস্ট্রোলজি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোলজারস ওয়েল ফেয়ার আসোসিয়েশন ও সর্ব ভারতীয় ব্রাহ্মণ পরিষদ। সেখানে থাকবে আদি শঙ্করাচার্যের নামাঙ্কিত মন্দির।

এক যুগ-সন্ধিক্ষণে আবির্ভূত হয়েছিলেন এই মহামানব। সমগ্র ভারতবর্ষকে নিজ আত্মায় তিনি যেন স্পর্শ করেছিলেন। আমরাও তাঁকে নিয়মিত স্মরণ করবো ওই মন্দিরে।

এই মহামানবকে স্মরণ করার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য মঠ বা মন্দির আমাদের ত্রিসীমানায় নেই ।

আমরা হাওড়ার টিকিয়াপাড়া স্টেশন সংলগ্ন চ্যাটার্জিপাড়ায় যে মন্দিরটি করতে চলেছি, তা হবে ধর্ম-ক্ষেত্রে এই সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মন্দির।

ইঁট, কাঠ, সিমেন্টের এই যে মন্দির হবে, তার খরচ খরচা বিপুল – এ নিয়ে নিশ্চয়ই কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। আমরা মন্দির নির্মাণের সময় সেই পবিত্রস্থান যাতে পরিবেশ বান্ধবও হয়, সে চেষ্টাও করবো।

ইতিমধ্যেই মন্দির খাতে বিপুল খরচের একটি হিসেব আমরা করে ফেলেছি। তাতে, আমরা মনস্থ করেছি, সাধারণ মানুষের কাছে আমরা যাব – এই মন্দির নির্মাণ কল্পে আর্থিক সাহায্যের জন্য। অসাধারণ এক মহাপুরুষের মন্দিরের নির্মানে যদি সাধারন নাগরিকের কোনও সামান্য অবদানও থাকে, তবেই সেই মন্দির হয়ে উঠবে অসামান্য। তাছাড়া তাঁকেও প্রকৃত সম্মান জানানো হবে বলেই আমরা মনে করি।

আগামী ১ লা মার্চ, এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মারফত মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পরেই কাল-বিলম্ব না করে আমাদের মন্দিরের কনস্ট্রাকশন শুরু করে দিতে হচ্ছে। কারণ আমাদের টার্গেট আগামী বৈশাখের কোনও এক শুভক্ষণ।

অর্থাৎ সময় মোটেই আর আমাদের হাতে নেই।                       

আমাদের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে আপনারাও এগিয়ে আসতে পারেন এই মহতী উদ্যোগে। মন্দির নির্মানের অনুদানের অন্য অর্থ,

আদিগুরু শংকরাচার্যের বারোশো বছর আগের অসামান্য উদ্যমের সাথী হওয়া। অর্থাৎ হাজার বছর অতিক্রান্ত।এই মহামানবকে শুধু নিয়মিত প্রনাম করার জন্য, তাঁকে স্মরণ করার জন্য – আমাদের সনাতন ধর্মের ভিতরের এক অনন্ত শক্তিকে আত্মস্থ করার জন্য একটি মন্দির খুবই প্রয়োজন।

আমরা জমিটি পাচ্ছি সৌন্দার্যয়নেরই জন্য। আদিগুরুর নামাঙ্কিত মন্দির হয়ে উঠবে – শান্ত, সুশীতল, অনাবিল, আধ্যাত্মিক ও অপূর্ব এক সৌন্দর্যের মিলনক্ষেত্র।

সবাইকে স্বাগত জানাই।

সবাইকে উদারহস্তে মন্দির অনুদান প্রকল্পে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

বিন্দু থেকেই তৈরি হয় সিন্ধু, টুকরো টুকরো ইচ্ছারা যখন ডানা মেলে স্বপ্নকে নিয়ে জুড়ে চলে। পূর্ণতা পায় সেই স্বপ্ন—

ঠিক তেমনই স্বপ্নে মোড়া ইচ্ছা নিয়ে, গুটি কয়েক জ্যোতিষী, তান্ত্রিক,পুরোহিত মিলে 2017 সালের মে মাসে গঠিত হয় “অ্যাস্ট্রোলজি এন্ড অ্যাস্ট্রোলজার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোশিয়েসন” নামক একটি স্বপ্নের সংগঠন।

এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সমগ্র জ্যোতিষ, তান্ত্রিক, পুরোহিত দের একছাতার তলায় নিয়ে আসা, তাদের সংঘবদ্ধ করা। প্রত্যেকে যাতে প্রত্যেকের সুখে দুঃখে এগিয়ে আসতে পারে।

পিছিয়ে পড়া জ্যোতিষ, তান্ত্রিক, পুরোহিত দের সমস্যা শুনে তার সমাধান করা, ও পেশাগত ভাবে উন্নত করে তোলা। তাই মূল সংগঠন একটি শাখা তৈরি করে “সর্বভারতীয় ব্রাহ্মণ পারিষদ “নামে যারা ব্রাহ্মণ দের পাশে থেকে তাদের সংস্কৃত শিক্ষা ও পেশার উন্নতিকরন দিকটি নজর রাখছে। এর পাশাপাশি শিব জ্ঞানে জীব সেবায় ব্রতী হয়ে,সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে, সামাজিক কর্মকান্ডে মোননিবেশ করা।

যেমন ভাবা তেমন কাজ, প্রথম বছরই চমক ছিলো নবগ্রহ শান্তি পূজো ও যজ্ঞ, এবং রক্তদান শিবির।

সেবছরই ঘাটালে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় দুহাজার দুর্গত মানুষকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিলিকরা হয়, – শুকনো খাবার, পানীয় জল, ওষুধ, এবং জামাকাপড়।

নানা বাধা বিপত্তি আসতে থাকে, সব বাধাকে সংগঠনের সদস্য যোদ্ধারা পরাজিত করে  এগিয়ে যায়, বাড়তে থাকে সংগঠনের কলেবর। দ্বিতীয় বছর থেকে শুরু হয় জ্যোতিষ তান্ত্রিক দ্বারা পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে বড় বাসন্তী দুর্গা পূজা। পূজোর চারদিন ব্যাপী মনোরঞ্জন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চলতে থাকে। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিক্ষা, চক্ষু পরিক্ষা, চশমা দান, বস্ত্র বিতরন, রক্তদান শিবির এবং নরনারায়ণ সেবা।সাফল্যের সাথে পূজো দুবছর সম্পন্ন হয়, চলছে তৃতীয় বছরের মাতৃ আরাধনার প্রস্তুতি। এছাড়াও বছরভর চলতে থাকে নানা সামাজিক কাজ কখনও বৃক্ষরোপন, বৃক্ষপ্রদান, কখনও বা অনাথ শিশুদের শীতবস্ত্র প্রদান তাদের খাবার প্রদান।

ইতিমধ্যে গৌরবের সাথে আমরা প্রতিটি সদস্য/সদস্যা কে স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ করেদিতে চলেছি। এবং প্রতিটি সদস্য /সদস্যা কে নিয়ে আসতে চলেছি সাধারণ বীমার সুরক্ষা বলয়ে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি করা হয়ে পারিবারিক ভ্রমণ যাতে আরো দৃঢ় হয় সকলের সম্পর্ক।

ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতার সাথে আমাদের অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক, তাকেই সম্বল করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম “আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যে’র মূর্তি ও মন্দির, এবং তৎসহ একটি “অ্যাস্ট্রাল গার্ডেন”(জ্যোতিষ বাগীচা) স্থাপন করতে চলেছি।

হাওড়া মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সহযোগীতায় পাওয়া দশ কাঠা জমির উপর, এই সংগঠন করতে চলেছে এমন স্বপ্নের বাস্তবিক রূপায়ন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ও প্রধান এই সংগঠন ভবিষ্যতে আরো অনেক কর্মসূচী নিয়ে আসতে চলেছে। যাতে জ্যোতিষ, তান্ত্রিক, পুরোহিত দের হিতকারী হয়।

তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই সাদর আমন্ত্রণ।আপনিও আসুন এই মহতি কর্মের অংশীদার ও সাক্ষী হতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *